আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজের ওপর হামলা হলে এর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বলেন, দেশটির কাছে উন্নতমানের অস্ত্র ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি পরিকল্পনার আওতায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে কার্যক্রম শুরু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো প্রণালিতে ইরানের সম্ভাব্য বাধা মোকাবিলা করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া।
সম্প্রতি ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যার ফলে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কয়েকটি ছোট নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করেছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সূত্রে দেখা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল এখনো পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি এবং অনেক জাহাজ চলাচল স্থগিত রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে বর্তমানে বহু দেশের জাহাজ আটকে রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, অন্তত ৮৭টি দেশের জাহাজ এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে, যেগুলো সরাসরি সংঘাতের পক্ষ না হলেও এর প্রভাব ভোগ করছে। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনী বিভিন্ন জাহাজ ও শিপিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে নজর রাখছে, কারণ উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস সত্ত্বেও জাহাজ মালিক ও শিপিং কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।


