জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর কদমতলীতে একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। রোববার ভোররাতে সাদ্দাম মার্কেটের গিরিধারা এলাকার একটি নয়তলা ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে দগ্ধরা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন—সবজি বিক্রেতা মো. কালাম (৪৭), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৩৫), ছেলে মুন্না (১২), দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৫)। পরিবারটি ওই ভবনের নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। তাদের স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বরুকদিয়া গ্রামে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে পরিবারের সদস্যরা যখন ঘুমন্ত ছিলেন, তখন রান্নার কাজের জন্য চুলা জ্বালাতে গেলে আকস্মিক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে দগ্ধদের উদ্ধার করেন এবং দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
উদ্ধারকার্যে সহায়তাকারী রাকিব জানান, আগুনের তীব্রতায় পরিবারের পাঁচ সদস্যই শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমপ্রাপ্ত হয়েছেন। ঘর থেকে কোনোমতে বের হতে পারলেও তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। দগ্ধ সালমা বেগমের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রান্নার চুলা জ্বালাতে যাওয়ার পরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, ভোরবেলা দগ্ধ পাঁচজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে দগ্ধের পরিমাণ ও শ্বাসনালীর অবস্থা বিবেচনায় কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হতে পারে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন পুরনো ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত দীর্ঘ সময় চুলা বা সিলিন্ডারের চাবি খোলা থাকা অথবা পাইপলাইনের ছিদ্র থেকে ঘরে গ্যাস জমে থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ বা দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালালে এ ধরনের ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। কদমতলীর এই ঘটনাটি সেই ঝুঁকির বাস্তব চিত্র পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও সিলিন্ডার বা গ্যাস লাইনের কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জনবহুল এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অগ্নি নির্বাপণ ও বায়ু চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


