শান্তি ও জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শান্তি ও জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশ বাহিনী প্রমাণ করেছে যে তারা নিরপেক্ষ ও সফলভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম। আজ সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিদেশের মাটিতে শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ যে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে, দেশের অভ্যন্তরেও জনগণের সঙ্গে সেই একই মানবিক ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল রাজারবাগের বীর পুলিশ সদস্যরা। এই মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি যেন ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার হরণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন ও ত্যাগের বিনিময়ে গঠিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বিশেষ করে বছরের পর বছর ধরে নির্যাতিত ও অধিকারহারা মানুষ এখন রাষ্ট্রে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান কারিগর হলো পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ কেবল প্যারেড গ্রাউন্ডের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের জান-মালের সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে সাহসিকতা ও মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত আপনারা স্থাপন করেছেন, তা দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পাথেয় হওয়া উচিত। নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে জনবান্ধব হওয়ার এবং আইনি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং দেশ গড়ার শপথে পুলিশ বাহিনীকে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ