সুরে সুরে ডেঙ্গু সচেতনতা: ডিএনসিসির ব্যতিক্রমী প্রচার কার্যক্রম শুরু

সুরে সুরে ডেঙ্গু সচেতনতা: ডিএনসিসির ব্যতিক্রমী প্রচার কার্যক্রম শুরু

জাতীয় ডেস্ক

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ‘সুরে সুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ’ শীর্ষক একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ডিসিসি মার্কেটের সামনে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

নগরীর ৫৪টি ওয়ার্ডের মোট ১০০টি জনবহুল স্থানে আগামী ২০ দিনব্যাপী এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রচলিত প্রচারণার পাশাপাশি বাউল সংগীতের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাউল গানের সুরে মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা, জমে থাকা পানি অপসারণ, বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়; বরং নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। প্রচলিত মাইকিং বা লিফলেট বিতরণের চেয়ে সাংস্কৃতিক মাধ্যম মানুষের হৃদয়ে দ্রুত আবেদন তৈরি করে। সেই চিন্তা থেকেই বাউল সংগীতকে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাগরিকরা যদি নিয়মিত নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখেন, তবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে ‘শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ডিএনসিসি নগরবাসীকে একটি সামাজিক আন্দোলনে শামিল করার চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মোকাবিলায় সিটি কর্পোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যদি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, তবেই মশা নিধন কার্যক্রম টেকসই সাফল্য পাবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এডিস মশার বিস্তার বৃদ্ধি পায়, যা ডেঙ্গু জ্বরের প্রধান কারণ। বাউল সংগীতের মতো জনপ্রিয় ও লোকজ সংস্কৃতির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বার্তা প্রচার করা হলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসম্পৃক্ততার কোনো বিকল্প নেই। লোকজ সংস্কৃতির মাধ্যমে এই ধরনের প্রচারণা তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই ১০০টি স্পটে সংগীত পরিবেশনার সময় এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র সম্পর্কে সচিত্র তথ্য প্রদান করা হবে। বিশেষ করে টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা বা নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে যাতে মশা ডিম পাড়তে না পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে। নগরবাসীকে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, তিন দিনের বেশি জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ২০ দিনব্যাপী এই কার্যক্রমের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে অন্যান্য জনস্বাস্থ্য সংকটেও অনুরূপ সৃজনশীল প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নগরায়ণের ফলে ডেঙ্গু এখন একটি বছরব্যাপী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কেবল মৌসুম ভিত্তিক নয়, বছরজুড়ে এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। ডিএনসিসির এই বাউল সংগীত ভিত্তিক প্রচারণা নগরীর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা ছড়াতে একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ