জাতীয় ডেস্ক
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিজের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিম জারা। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা ‘নীরবতা’ ও ‘পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন। একইসঙ্গে বর্তমান স্বাস্থ্য সংকটের কারণ ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণে একটি শক্তিশালী সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বিবৃতিতে ডা. তাসনিম জারা দাবি করেন, দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের অভিযোগ—তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে সুরক্ষা দিতে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, বিগত ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসায় অবহেলা ও ধীরগতির ইস্যুতে তিনি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে জনসমক্ষে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ফলে সরকারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অবান্তর।
জনস্বাস্থ্য বিষয়ে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরে ডা. জারা জানান, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সমাধানের উপায় নিয়ে কথা বলছেন। গত ১৯ এপ্রিল তিনি প্রথমবার এই সংকটের পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার এসব বক্তব্যের রেকর্ড ও তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “একটি জনস্বাস্থ্য সংকটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যখন শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, তখন রাজনৈতিক কর্মীদের উচিত ছিল সমাধানে অংশ নেওয়া। কিন্তু তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে টিকাদান কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা বা মাঠ পর্যায়ের তদারকির অভাব থাকতে পারে। ডা. তাসনিম জারার উত্থাপিত তদন্ত কমিটির দাবিটি জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


