জাতীয় ডেস্ক
দেশের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনভোগান্তি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, “সমাজের এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এই ধরনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্তদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
আঞ্চলিক ও জাতীয় উন্নয়নের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা লাভ করা সিঙ্গাপুর আজ বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম শীর্ষে অবস্থান করছে। অথচ বাংলাদেশে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আদর্শিক বিচ্যুতির কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। তিনি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবাইকে উন্নয়নমুখী হওয়ার আহ্বান জানান।
উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা দেশের জন্য এক বিশাল সম্পদ। বিশেষ করে বরগুনা ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। তিনি সুন্দরবন থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বৃহৎ আকারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপকূলের এই প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অবহেলিত ও প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়াও নারী শিক্ষা প্রসারে ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এর আগে বুধবার রাতে সরকারি সফরে বরগুনায় পৌঁছান চিফ হুইপ। সফরের অংশ হিসেবে গতকাল সকালে তিনি বরগুনা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। উক্ত সভায় স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপকূলীয় এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


