মার্কিন ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতায় কেনিয়ায় বিক্ষোভ, পুলিশি অ্যাকশনে নিহত ২

মার্কিন ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতায় কেনিয়ায় বিক্ষোভ, পুলিশি অ্যাকশনে নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কেনিয়ার নানিয়ুকি শহরে একটি প্রস্তাবিত মার্কিন ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত দুই যুবক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার নানিয়ুকি শহরের একটি প্রধান সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে এক যুবকের পরিবারের দাবি, তাদের সন্তান কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা সহিংসতার সাথে জড়িত ছিল না। রাস্তা দিয়ে সাধারণ পথচারী হিসেবে হেঁটে যাওয়ার সময় তিনি হঠাৎ পুলিশি অ্যাকশনের মুখে পড়েন এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য কিংবা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) সম্প্রতি ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কঙ্গোতে আক্রান্ত হওয়া মার্কিন নাগরিকদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কেনিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে কেনিয়ার সাধারণ নাগরিক এবং স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রধান সংগঠনগুলো এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান নিয়েছে।

আন্দোলনকারী ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের প্রধান আশঙ্কা হলো, কেনিয়ায় এখন পর্যন্ত ইবোলা ভাইরাসের কোনো সংক্রমণ শনাক্ত না হলেও, এই বিশেষায়িত কেন্দ্রের মাধ্যমে অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জননিরাপত্তা ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেনিয়ার হাইকোর্ট ইতোমধ্যেই এক আদেশে এই চিকিৎসা কেন্দ্রের সমস্ত নির্মাণ ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নানিয়ুকির সংশ্লিষ্ট সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন কেন্দ্রটি স্থাপনের প্রাথমিক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করলেও কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম রুটো মার্কিন এই পরিকল্পনার পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম রুটো এক বিবৃতিতে জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক দীর্ঘদিনের কৌশলগত বন্ধুত্বের খাতিরে কেনিয়ার কাছে এই বিশেষ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে কেনিয়া সরকার তাতে সম্মতি দিয়েছে। তিনি দেশবাসীকে এই সংবেদনশীল জনস্বাস্থ্য ইস্যু নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে, সরকার দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেনিয়ার হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, জনস্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারকে এই প্রস্তাবিত চিকিৎসা কেন্দ্রের সামগ্রিক রূপরেখা, চুক্তি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য অবিলম্বে জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। আদালতের আদেশ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মধ্যকার এই টানাপোড়েন কেনিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ