অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর মুগদা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তানভীর হোসেইন শুভর (৪৫) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে আহমেদবাগের একটি বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বেশ কয়েক দিন আগে পারিবারিক সংকটের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, আহমেদবাগ এলাকার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। এতে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তারা বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান। বাড়ির মালিক তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে তানভীর হোসেইনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
পরিবার ও নিকটজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহত তানভীর হোসেইন শুভর পৈতৃক নিবাস রাজধানীর সেগুনবাগিচায়। তার বাবার নাম তবারক হোসেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ এই কর্মকর্তা সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময় পার করছিলেন। দাম্পত্য কলহের জেরে কিছুদিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা হয়ে মুগদার আহমেদবাগের এই ফ্ল্যাটে একাকী বসবাস শুরু করেন। একাকীত্ব এবং পারিবারিক মানসিক চাপের কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবনের মালিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পবিত্র ঈদুল আজহার দিন তানভীর হোসেইনকে শেষবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তাকে আর বাইরে চলাচল করতে দেখা যায়নি এবং তার ফ্ল্যাটটিও বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে তিনি বাসাতেই অবস্থান করতেন। তবে বেশ কিছুদিন তার কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় এবং সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করায় বাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বোরহান উদ্দিন জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। মরদেহটি উদ্ধার করার সময় তা বেশ বিকৃত ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত তিন থেকে চার দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহটি ঝুলছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পরপরই নিহত তানভীরের সহকর্মী এবং তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। স্বজন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। রাতেই মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মুগদা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উচ্চপদস্থ এই ব্যাংক কর্মকর্তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার কর্মস্থল ও পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


