অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চলতি অর্থবছরের দ্বাদশ বৈঠক শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে উচ্চপর্যায়ের এই সভাটি শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি একনেকের চতুর্থ বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে একনেক সভা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতিশীলতা আনতে আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও সংশোধনে সম্ভাব্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা খাতের আধুনিকায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সরকার কাঠামো জোরদারকরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আজকের একনেক সভায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বড় প্রকল্প নীতিগত অনুমোদনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৮০০ একর জমির ওপর ‘চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ স্থাপন প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি একনেক সভায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়ন দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি দেশের তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিক সেবা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে এবারের সভায়। চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩৪৪ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’ অনুমোদনের জন্য তোলা হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন মেয়াদে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ চলবে। এছাড়া ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থানীয় অবকাঠামোগত প্রসারে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প’ সহ আরও বেশ কিছু গণমুখী উদ্যোগ আজ বিবেচনার টেবিলে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে একনেকের এই সভার সিদ্ধান্তগুলো বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গ্রামীণ যোগাযোগ, আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এই প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য। সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সিনিয়র সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। সভা শেষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত তালিকা ও অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো হবে।


