অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৬১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা ছিনতাই, চুরি, মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন সহিংস অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনব্যাপী তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানা এলাকায় একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে এই নিয়মিত ও বিশেষ চিরুনি অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে সংশ্লিষ্ট মামলায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেজগাঁও বিভাগের অন্তর্গত মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে মোট ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আদাবর থানা এলাকা থেকে নয়জন, তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে পাঁচজন, শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে পাঁচজন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে পাঁচজন এবং হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. জাহিদ (২৩), মো. শুভ (২৩), মো. নাঈম (১৮), মো. হযরত আলী (১৯), মো. তাইজুল ইসলাম তুহিন (২২), রাসেল (৩২), মো. আমির হোসেন (২৩), মো. মুন্না (৩২), মো. রুবেল খা (৪০), মো. আরজু (৩৭) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরসহ মোট ৬১ জন রয়েছেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অপরাধের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুরের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই অভিযান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিপুল সংখ্যক অপরাধীকে একসঙ্গে আইনের আওতায় আনায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, মহানগরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধের উৎসগুলো বন্ধ করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে চুরি, ছিনতাই এবং মাদক ও অস্ত্রের অবৈধ কারবার সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের এই বিশেষ চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। নাগরিকদের সুরক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


