ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এই অনন্য ইতিহাস গড়েছেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মাতিয়াস গালারজা। ম্যাচের মাত্র ৬৫ সেকেন্ডে (১ মিনিট ৫ সেকেন্ড) প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে চলতি আসরের দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি নিজের করে নেন তিনি। গালারজার এই রেকর্ড গড়া গোলের ওপর ভর করে ম্যাচটিতে তুরস্ককে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে চলমান এই বিশ্বমঞ্চে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের বাঁশি বাজার পরপরই আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই তুরস্কের রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়াতে সক্ষম হন গালারজা। এই দ্রুততম গোলটি ম্যাচজুড়ে প্যারাগুয়েকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখে এবং শেষ পর্যন্ত তারা এই লিড ধরে রেখে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে।
এর আগে, চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের পূর্ববর্তী রেকর্ডটি ছিল মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারির দখলে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তিনি মাত্র ৭১ সেকেন্ডে গোল করে এই কীর্তি গড়েছিলেন। তবে সাইবারির সেই রেকর্ডটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মাত্র ৬ সেকেন্ডের পার্থক্য তৈরি করে সাইবারিকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস লিখলেন প্যারাগুয়ের গালারজা।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের এই পরিবর্তন টুর্নামেন্টের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও একবার ফুটিয়ে তুলেছে। শুরুতেই গোল হজম করার পর তুরস্ক সমতায় ফেরার জন্য বেশ কিছু আক্রমণ পরিচালনা করলেও প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তা সফল হয়নি। মাঠের কৌশল ও রক্ষণভাগের নিখুঁত বোঝাপড়ার কারণে প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানেই মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে প্রথম কয়েক মিনিটের মনোযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ম্যাচটি তার বড় প্রমাণ। বিশ্বকাপের মতো আসরে শুরুতেই গোল পাওয়ার সুবিধা দলগুলোকে মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়। প্যারাগুয়ের জন্য এই জয়টি নকআউট পর্বে যাওয়ার সমীকরণকে অনেক সহজ করে তুলবে। অন্যদিকে, প্রথম মিনিটেই গোল হজম করার ধাক্কা সামলাতে না পেরে তুরস্ককে এই ম্যাচে পয়েন্ট হারাতে হলো, যা তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।


