৫০ শয্যার হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর

৫০ শয্যার হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর

সারাদেশ ডেস্ক

দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে সারাদেশে বিদ্যমান ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের যে ১০টি হাসপাতালকে এই রূপান্তরের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, তার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কার্যক্রম ও সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয় জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন যে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের মাধ্যমে এখন থেকে এই হাসপাতালে নিয়মিত সিজারিয়ান (অস্ত্রোপচার) অপারেশন কার্যক্রম চালু করা হবে।

হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা সংকট নিরসনে সম্প্রতি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন নতুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যোগদান করেছেন। তারা হলেন— অ্যানেশথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুস্মিতা সাহা। নতুন এই জনবল নিয়োগের ফলে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকটের আংশিক সমাধান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন দুজন চিকিৎসক যোগদান করায় স্থানীয় পর্যায়ে গর্ভবতী নারীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ সুগম হলো। খুব দ্রুতই এই হাসপাতালে আরও চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কর্মী পদায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রোগীদের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য আর রাজধানী ঢাকা কিংবা জেলা সদরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রঞ্জন বর্মন চিকিৎসকদের যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রসূতি ও অ্যানেশথেসিয়া বিশেষজ্ঞ নিয়োগ পাওয়ায় এখন থেকে এই সরকারি হাসপাতালে নিরাপদে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো সম্ভব হবে। এর ফলে এলাকার গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি বাঞ্ছারামপুর অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, মেঘনা নদীতে প্রস্তাবিত সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সাথে বাঞ্ছারামপুরের সরাসরি যোগাযোগ সহজতর হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই উন্নতির ফলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের অনাবাদি জমিগুলোতে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাঞ্ছারামপুর থেকে নবীনগর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে এবং সেই অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কাজ এগিয়ে চলছে। এছাড়া বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ঢোলভাঙ্গা নদীর নাব্যতা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে নদীর তীর ঘেঁষে আধুনিক ওয়াকওয়ে (হাঁটার রাস্তা) নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রশাসক রবিউল হাসান ভূঁইয়া, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবু সাঈদ, হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকবৃন্দ এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ