আইন আদালত ডেস্ক
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ বিচারিক কার্যক্রম দেশজুড়ে এক বিশেষ রাজনৈতিক ও আইনি আবহের সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, আজ প্রথমে এই মামলার প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে। সূচনা বক্তব্যে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর একটি সারসংক্ষেপ আদালতের সামনে তুলে ধরা হবে। এরপর মামলার প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিচার প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান এই ধাপ।
এর আগে, গত ১৭ জুন এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল শুনানির তারিখ পুনর্নির্ধারণ করে আজকের দিনটি ঠিক করেন। তারও আগে, গত ৩০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন।
তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঠেকাতে এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এই দুই প্রভাবশালী নেতা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য ও ভূমিকা রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং দেশজুড়ে কঠোর কারফিউ জারির পেছনে সরাসরি প্ররোচনা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও উসকানিমূলক নির্দেশনার ফলেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এর ফলশ্রুতিতে রাজধানীর বাড্ডাসহ সংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ২৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং আরও অসংখ্য মানুষ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এই ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আইনজ্ঞদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়ায় এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট সহিংসতার জন্য তাদের দায়বদ্ধতা নির্ধারণে এই বিচারিক প্রক্রিয়া বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর মাধ্যমে মামলার আইনি লড়াই আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


