যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সামনে রেখে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সামনে রেখে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার আসন্ন বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই নেতার সম্পর্কের মাত্রা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিশ্লেষণ চলছে।

শনিবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে ন্যাটোর আসন্ন সম্মেলন শেষে দুই নেতার মধ্যে হোয়াইট হাউসে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সফর সফল হলে তা হবে গত ফেব্রুয়ারির পর নেতানিয়াহুর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতি এবং ইরানের সাথে ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।

ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সাম্প্রতিক কথোপকথন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যন্ত দৃঢ়। নিজের প্রভাবের বিষয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্য মূলত দুই নেতার মধ্যকার ক্ষমতার সমীকরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের গুরুত্বকে তুলে ধরার একটি কৌশলগত প্রয়াস।

এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও দুই নেতার ফোনালাপ এবং অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে সাক্ষাতের বিষয়ে সম্মতি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ কিছু উপদেষ্টার পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর বিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থান এবং তার পরবর্তী প্রভাব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারিতে তাদের সর্বশেষ সাক্ষাতের পর থেকে ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, হোয়াইট হাউসে আসন্ন এই বৈঠকের এজেন্ডা কী হবে এবং ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে কতটা ছাড় বা সমর্থন প্রদান করবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিফলন নয়, বরং এটি আগামী দিনের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের একটি সংকেতও হতে পারে। নেতানিয়াহুর জন্য এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘরের মাটিতে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে নেতানিয়াহুর নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা আগামী বৈঠকে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে পর্যবেক্ষকদের। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোর সাথে ইসরায়েলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিকল্পনার সমন্বয় করা একটি জটিল কাজ হতে পারে।

পরিশেষে, দুই নেতার মধ্যকার এই বৈঠকটি কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। বৈঠকটি নির্ধারিত সময়ের অর্থাৎ ন্যাটো সম্মেলনের পরপরই অনুষ্ঠিত হবে নাকি তার পরবর্তী সপ্তাহে হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও, দুই নেতার মধ্যকার আলোচনার নির্যাস যে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন অপেক্ষা করছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই বৈঠকের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য।

ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন অবস্থানের কৌশলগত কারণ কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ