অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টিনসেনের নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক ও মতবিনিময় করেছেন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগের নানামুখী সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে এই প্রাতরাশ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যৌথ অংশীদারিত্বের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগের পরিবেশ, পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রবাসীদের অবদান এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বৈঠকে সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, তাহসিনা রুশদীর লুনা, এমরান আহমেদ চৌধুরী ও মুফতি আবুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সিলেটের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটন শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে এই সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন এবং ভারী শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তা আরও বেগবান করতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন যাত্রায় অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে তা সিলেটের স্থানীয় যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, রাজধানী ঢাকার বাইরে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক বৈঠক দেশের বিকেন্দ্রীকরণ নীতি ও আঞ্চলিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রহ অত্যন্ত ইতিবাচক। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টিনসেনও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী দুই দেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করছেন। বৈঠকে প্রবাসীদের এই অনন্য অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স ও মেধাকে কীভাবে দেশের শিল্পায়নে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় কেবল দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককেই গভীর করবে না, বরং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


