জাতীয় ডেস্ক
গত কয়েকদিনের অবিরাম ও রেকর্ডভাঙা বর্ষণে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট জনদুর্ভোগে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জানমাল রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী এই অঞ্চলের বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দুর্গত এলাকার মানুষদের এই কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং বিপন্ন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ খাদ্য, বস্ত্র ও জরুরি আশ্রয় দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জোর তাগিদ দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও উদ্ধার তৎপরতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের এই বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন। দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে যেন সমন্বিত ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪২ বছরের মধ্যে এবারই রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণ হয়েছে চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চট্টগ্রামে বিমান ওঠা-নামা এবং ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, যার ফলে দেশের অন্যান্য অংশের সাথে বাণিজ্যিক রাজধানীর যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রধান সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। অনেক স্থানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও কয়েকদিন এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা এড়াতে এবং জানমালের ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করা এবং নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সাথে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং পানিবাহিত রোগ বালাই ছড়ানো রোধে স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ টিম গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।


