জাতীয় ও প্রশাসন ডেস্ক
দেশের ভূমি নিবন্ধন সেবাকে সম্পূর্ণ আধুনিক, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে গৃহীত ‘ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোরশেদ ইমতিয়াজ। তিনি আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সরকার নির্ধারিত প্রেষণে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শীর্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের পরিকল্পনা ইউনিট থেকে জারি করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়, ৬৩২ কোটি ৬৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবাকে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন এবং আধুনিক করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পের সময়সীমা ও কাজের পরিধি সম্পর্কে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা অটোমেশন’ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত। অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সমগ্র ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হবে। নবনিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোরশেদ ইমতিয়াজ প্রকল্পের সার্বিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, মাঠপর্যায়ে এর সফল বাস্তবায়ন, নিবিড় তদারকি এবং সামগ্রিক অগ্রগতি মূল্যায়নের প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ভূমি খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে প্রচলিত জটিল ও সনাতন দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, সহজ এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হবে। ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির ফলে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, সরকারি দপ্তরে যাতায়াতের সময় এবং অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটা সংরক্ষিত থাকায় জমি কেনাবেচায় জালিয়াতি, ভুয়া দলিল তৈরি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক অনিয়ম কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ইতোমধ্যেই এই অফিস আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যকারিতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, অর্থ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনদের মতে, দেশের সাধারণ নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হতে হয় ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে। এই অটোমেশন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক সেবা পৌঁছানোর পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়েও গতি আসবে। একই সাথে ভূমি নিবন্ধন সেবায় প্রাতিষ্ঠানিক গতিশীলতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।


