প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ আগামীকাল, সংবাদ সম্মেলন দুপুরে

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ আগামীকাল, সংবাদ সম্মেলন দুপুরে

জাতীয় শিক্ষা ডেস্ক

আগামীকাল রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। রাজধানী ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দুপুর নাগাদ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ফলাফল ঘোষণা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা উপদেষ্টা উপস্থিত থেকে ফলাফল সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনের পরপরই ফলপ্রত্যাশীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত ও সহজে নিজেদের ফলাফল জানতে পারবেন। রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের মাধ্যমে ফলাফল জানতে হলে যেকোনো মুঠোফোন থেকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠাতে হবে। বার্তা প্রেরণের জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজি বড় অক্ষরে ‘DPE’, এরপর একটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ (16222) নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি বার্তায় ফলপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীর বিস্তারিত ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকেও এই ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সারা দেশ থেকে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। এবারের নীতিমালায় সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কোটা বিভাজন করা হয়েছে। মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ৮০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়া হবে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বা কিন্ডারগার্টেন থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যোগ্য প্রার্থীদের। প্রতিবছরের মতো এবারও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে— ‘ট্যালেন্টপুল’ (মেধাবৃত্তি) এবং ‘সাধারণ গ্রেড’। উভয় ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে এই আর্থিক প্রণোদনা লাভ করবে।

শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বৃত্তি প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করা এবং তাদের ঝরে পড়া রোধ করা। দীর্ঘ সময় পর এই বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু হওয়ায় দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান মূল্যায়নে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদেরা। বিশেষ করে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য বড় অংশ বরাদ্দ রাখায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মূল ধারায় টিকিয়ে রাখা সহজ হবে।

উল্লেখ্য, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দেশের ভৌগোলিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দেশের পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ছাড়া বাকি সব জেলায় গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত একযোগে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে দুর্গম ও বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে পার্বত্য তিন জেলার পরীক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সারা দেশের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী এই মূল্যায়নে অংশ নিয়েছিল, যাদের অপেক্ষার অবসান ঘটছে আগামীকালের ফলাফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ