অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বন্যাকবলিত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জরুরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিক এই তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন।
মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিখুঁত তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হওয়ামাত্রই সরকারের পক্ষ থেকে সার, বীজ ও আর্থিক সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুনর্বাসন প্যাকেজ কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষি খাতের সার্বিক উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকরা যে অর্থনৈতিক ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছেন, তা কাটিয়ে উঠতে এই রাষ্ট্রীয় সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিগুলোতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও গাফিলতি বরদাশ করা হবে না। অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান প্রশাসন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকি করছেন। ফলে এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা অঞ্চলের পরিবেশগত উন্নয়ন এবং সামাজিক বনায়ন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে নগর এলাকা পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান বক্তারা।
জাতীয় বৃক্ষমেলার এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার এবং পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় অংশীজনরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


