জাতীয় ডেস্ক
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে আগামীকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একটি কেন্দ্রীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে দেশের জনসংখ্যা পরিস্থিতি, পরিবার পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের গৃহী পদক্ষেপসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে দেশের গণমাধ্যমগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ আলোচনা ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান প্রধান জাতীয় দৈনিকগুলো দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে, যেখানে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধ স্থান পাবে।
১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ এবং এর জরুরি সমাধানের লক্ষ্যে প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই বিশ্বের ৯০টি দেশে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসটি উদযাপিত হয়। তখন থেকেই বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ, প্রজনন স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশে মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস এবং গড় আয়ু বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে সীমিত ভূখণ্ডে বিপুল জনসংখ্যার চাপ সামলানো এবং জনমিতিক লভ্যাংশ বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানো এখনো দেশের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের এই কেন্দ্রীয় আলোচনা সভায় রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ দিকনির্দেশনা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


