অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর গুলিস্তানের আলু বাজার এলাকায় ‘আরমান সেলুন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বিস্ফোরণের ঘটনায় কারিগর ও গ্রাহকসহ মোট ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই দগ্ধদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে নয়জন সেখানে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধদের মধ্যে মো. ফারুক (৩৫), রিংকু (৩০), রনি (৩৬), জসিম (৪০), রফিক (২৫), সামশেদ (৩০), রাজু (৩৪), পাপ্পু (২৬), সাকিব (১৭) এবং আরমান (৩৭) রয়েছেন। এদের মধ্যে সেলুনের কর্মী ও নিয়মিত গ্রাহক উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯ জনের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের শরীরে বিভিন্ন মাত্রায় দগ্ধ হওয়ার ক্ষত রয়েছে। তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে মো. ফারুকের শরীরের ৫০ শতাংশ, রিংকুর ২১ শতাংশ, রনির ১০ শতাংশ, জসিমের ৮ শতাংশ, রফিকের ১২ শতাংশ, সামশেদের ১৫ শতাংশ, রাজুর ১৮ শতাংশ, পাপ্পুর ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১ শতাংশ এবং আরমানের ১৫ শতাংশ পুড়েছে। এদের মধ্যে সাকিবের আঘাত তুলনামূলক কম হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের শরীরে দগ্ধ হওয়ার পরিমাণ বিবেচনায় যথাযথ নিবিড় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সেলুনটিতে এসির গ্যাস লিক বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণটি ঘটল, তা নিশ্চিত হতে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় এই ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে প্রায়ই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে পুরনো বা ত্রুটিপূর্ণ এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন না করলে এ ধরনের বিস্ফোরণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে লিক হওয়া গ্যাস জমে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দোকানপাটে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর থেকে এলাকায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।


