পার্বত্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি: দ্রুত অবকাঠামো সংস্কার ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

পার্বত্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি: দ্রুত অবকাঠামো সংস্কার ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

জাতীয় ডেস্ক

পার্বত্য অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর দ্রুত সংস্কার নিশ্চিতে সমন্বিত ও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় বান্দরবানের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি, জনদুর্ভোগ এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে এ সভায় বিশদ আলোচনা করা হয়।

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির ফলে বান্দরবান জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সংকটময় সময়ে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে বান্দরবান সদর থেকে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনঃস্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকাগুলোর ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা সাজাতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, প্রতিটি দপ্তরের আওতাধীন কাজের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। বন্যার্তদের তালিকা প্রণয়ন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। যথাযথ তথ্য থাকলে পরবর্তী সময়ে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজতর হবে এবং সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। অংশগ্রহণকারী জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার ক্ষয়ক্ষতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ গেজেটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং ত্রাণ বিতরণের সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যাকবলিত অঞ্চলসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেন এবং ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেবল ত্রাণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে স্থায়ী বনায়ন, টেকসই সড়ক নির্মাণ এবং দুর্যোগকালীন পূর্বসতর্কতা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সাম্প্রতিক এই সফর ও সমন্বয় সভা দুর্গত মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কতটা দ্রুততার সাথে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে, তার ওপরই নির্ভর করছে পার্বত্যবাসীর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার গতি। সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ