আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় গত মাসে আঘাত হানা বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার দেশটির শীর্ষ আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকাজ পরিচালনার প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করে এখন ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে, যার ফলে নিহতের এই নতুন পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
গত ২৪ জুন ভেনিজুয়েলার ইয়ারাচুই রাজ্যে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্প দুটি সংঘটিত হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি অতি শক্তিশালী কম্পনের ফলে ভূ-কম্পনজনিত যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা অবকাঠামোগত বিপর্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মূলত প্রথম কম্পনের ফলে দুর্বল হয়ে পড়া স্থাপনাগুলো দ্বিতীয় শক্তিশালী কম্পনের আঘাতে পুরোপুরি ধসে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে।
হোর্হে রদ্রিগেজ তার বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কেবল প্রাণহানিই নয়, এই দুর্যোগে দেশটির ইয়ারাচুই ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জনবসতি ও সরকারি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঘরবাড়ি ধসে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় বহুতল ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চললেও দুর্গম অনেক এলাকায় পৌঁছানো এখনো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বর্তমানে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা পুরোদমে চলছে। বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী এবং সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন। তবে ক্রমাগত বৃষ্টিপাত এবং ভূখণ্ডগত জটিলতার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমগুলো কাজ করছে, তবে হাসপাতালে শয্যা সংকট এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি ও আবাসন খাতের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইয়ারাচুই অঞ্চলের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বিপুল পরিমাণ তহবিলের প্রয়োজন হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে মানবিক সহায়তা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং বিধ্বস্ত এলাকাগুলোর জরুরি অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর বেশ কিছুদিন ছোট মাত্রার আফটার শক অনুভূত হতে পারে, যা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর জন্য বাড়তি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনো প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
দেশটির বর্তমান এই মানবিক বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিহতের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান সম্পর্কে আরও বিশদ তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন।


