গার্মেন্টস শিল্পের ঋণের সুদ কমাতে সরকারের উদ্যোগ: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

গার্মেন্টস শিল্পের ঋণের সুদ কমাতে সরকারের উদ্যোগ: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সংকট উত্তরণ এবং বেসরকারি খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ব্যাংক ঋণের সুদ হার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর নিকুঞ্জে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (বাগমা) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে ব্যাংক ঋণের সুদ হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তার মতে, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণই অর্থনীতির টেকসই ভিত্তি নিশ্চিত করতে পারে।

অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জের বিষয়ে আলোকপাত করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত বছরগুলোতে ব্যাপক মাত্রায় সম্পদ পাচারের ফলে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা এবং স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোর মাধ্যমেই এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখলে দেশের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, কেবল রাজনৈতিক কাঠামো নয়, বরং অর্থনৈতিক কাঠামোকেও গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পরিচালিত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।

কর্মশালায় পোশাক শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তারা ঋণের সুদ কমানো, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক জটিলতা দূরীকরণ এবং জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবি জানান। জবাবে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অটুট রাখতে সরকার ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে।

পরিশেষে, মন্ত্রী অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো ঠিক রাখতে সরকার নীতিগত সংস্কারের দিকে এগুচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। এই প্রক্রিয়ায় শিল্প মালিক, শ্রমিক ও রাষ্ট্র—সবার দায়বদ্ধতা সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ