বিনোদন ডেস্ক
অভিনয়শিল্পী সংঘের কার্যনির্বাহী পর্ষদের এক বছর পূর্তি ও সংগঠনটির নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বরেণ্য নাট্যজন ও সংগঠনের উপদেষ্টা মামুনুর রশীদ। গত ১৪ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্পীদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মামুনুর রশীদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোকে শিল্পীদের দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানানো হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওর মতো গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমগুলোতে শিল্পীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে বিভাজনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সচেতনতা জরুরি। শিল্পীদের রাজনীতির ‘বন্ধনী’ থেকে মুক্ত করতে না পারলে তাঁদের প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিল্পীদের পেশাগত ও মানবিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক শিল্পীই অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পান না। তিনি সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও বিস্তৃত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোনো শিল্পী দুর্ঘটনায় বা বিপদে পড়লে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মানবিক সহযোগিতা পাওয়াটাই বড় অর্জন। করোনার সময়ে শিল্পীদের পাশে যেভাবে সংগঠন দাঁড়িয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিল্পীর বিপদে অভয় দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মামুনুর রশীদ শিল্পীদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, শিল্পী হিসেবে কে বড় আর কে ছোট—সেটি মুখ্য নয়; বরং একজন সহকর্মীর বিপদে-আপদে এবং উৎসবে পাশে থাকার মানসিকতাই মূল। অভিনয়শিল্পী সংঘকে এমন এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি, যেখানে একজন শিল্পী নিজেকে একা মনে করবেন না এবং যেকোনো সংকটে সহকর্মীদের পাশে পাবেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনয়শিল্পী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বরেণ্য অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অভিনেতা শাহাদাৎ হোসেন। এতে দিলারা জামান, খায়রুল আলম সবুজ, সারা যাকের, শহীদুজ্জামান সেলিম, আজিজুল হাকিম, তৌকীর আহমেদ, আহসান হাবীব নাসিমসহ অভিনয়শিল্পীদের একটি বড় অংশ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংগঠনের নতুন ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিল্পীদের তথ্য ও সেবা প্রাপ্তি সহজতর করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে অভিনয়শিল্পীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন থাকলেও, তৃণমূল পর্যায়ের শিল্পীদের সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার পথ এখনো অনেকটা দীর্ঘ। মামুনুর রশীদের এই দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিল্পীদের দলীয় পরিচয় ছাপিয়ে পেশাগত পরিচয়ে অধিকার রক্ষার দাবিটি চলচ্চিত্র ও নাট্যপাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিল্পীদের জন্য একটি অরাজনৈতিক, শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে যে কতটা জরুরি, তা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবারও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।


