অপরাধ ডেস্ক
ঢাকার মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজির একটি মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অপরাধী চক্রের অস্ত্রভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তানিম রেজা বাপ্পির অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ করছিল ডিবি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মতিঝিল থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
তানিম রেজা বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, তিনি কেবল চাঁদাবাজির সঙ্গেই জড়িত নন, বরং সুব্রত বাইনের নিয়ন্ত্রণাধীন অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডার সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি ও আদায় করাই ছিল তার প্রধান কাজ। বাপ্পি গ্রেপ্তারের ফলে ওই এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
বর্তমানে বাংলাদেশে যে কয়েকটি শীর্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, তাদের মধ্যে সুব্রত বাইন চক্রটি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘকাল ধরে এই চক্রটি ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি খুন, গুম, জবরদখল ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার এই চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তানিম রেজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে এই চক্রের সক্ষমতা হ্রাসের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিবি সূত্র আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে বিস্তারিত আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের এবং অস্ত্রভাণ্ডারের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগরীতে গত কয়েক মাসে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মতিঝিলসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভাঙতে ডিবি পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বাপ্পির গ্রেপ্তারের এই সংবাদটি মতিঝিল ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনজীবীদের মতে, সুব্রত বাইনের মতো পলাতক সন্ত্রাসীদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। এই গ্রেপ্তার শুধু চাঁদাবাজির একটি মামলার সুরাহা নয়, বরং বৃহৎ কোনো অপরাধী নেটওয়ার্কের তথ্য উদ্ঘাটনে সহায়ক হতে পারে। ঘটনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে তাকে দ্রুত আদালতে হাজির করে বিস্তারিত রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


