নৌ-বাণিজ্য ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দরের চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) ৩ নম্বর বার্থে গ্যান্ট্রি ক্রেনের তার ছিঁড়ে একটি কনটেইনার পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
বন্দর সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শনিবার রাতে চ্যাং হাই নামক জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের সময় এই যান্ত্রিক বিভ্রাট ঘটে। সিসিটি-৩ জেটিতে অবস্থানরত জাহাজটি থেকে গ্যান্ট্রি ক্রেন নম্বর-৪ ব্যবহার করে ৪০ ফুটের একটি আমদানি করা কনটেইনার নামানো হচ্ছিল। এ সময় ক্রেনের স্প্রেডারের লেসিং বা তার হঠাৎ ছিঁড়ে গেলে কনটেইনারটি নিচে থাকা ক্রেনের বিমের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ক্রেন ও কনটেইনার উভয়ই আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কনটেইনারের ভেতরে থাকা আমদানিকৃত কাঠের গুঁড়িগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রোটোকল কার্যকর করে। বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত কনটেইনারটি নিরাপদ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম উদ্ধারের কাজ দ্রুততার সাথে শুরু করা হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেনটি মেরামতের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির দায়িত্ব হলো ক্রেনের স্প্রেডারের লেসিং ছিঁড়ে পড়ার পেছনে কোনো যান্ত্রিক অবহেলা ছিল কি না অথবা রক্ষণাবেক্ষণ ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। এছাড়া ভারী পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সময় নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে পালিত হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসিটি-৩ বার্থের নির্দিষ্ট দুর্ঘটনার স্থানটি ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যান্য জেটি ও বার্থে কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং সামগ্রিক অপারেশনাল কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সচল রয়েছে। বন্দরের পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় এই দুর্ঘটনার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। বন্দরে নিয়মিতভাবে আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করে পণ্য খালাস করা হয়। যদিও বন্দরের যান্ত্রিক সরঞ্জামগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় থাকে, তবুও এ ধরনের দুর্ঘটনা অপারেশনাল নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। কারিগরি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


