মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তজনা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাতের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তজনা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাতের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে এবং সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। টানা সাত দিনের তীব্র লড়াইয়ের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং সংঘাত অবসানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জুন মাসের শেষে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতার শর্ত মানার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকে ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা সাত দিনের অভিযানে ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার, নৌবাহিনীর অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক রসদ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর এই হামলা আরও জোরদার করা হয়েছে।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রায় তিন মাস বিরতির পর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ও ইয়ানবু এলাকাতেও ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন এই সংঘাতের ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির খুজেস্তান প্রদেশের অন্তত ১২টি শহরে মার্কিন হামলায় বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতির চরম অবনতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরকে ‘মূল্যহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ইরান ‘সর্বাত্মক অভিযান’ শুরু করতে বাধ্য হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পরিধি এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সিরিয়া ও সৌদি আরবসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, এই সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘ বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাগুলোও ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ