ঝিনাইদহে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য: জুলাই সনদের আলোকে আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের আশ্বাস

ঝিনাইদহে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য: জুলাই সনদের আলোকে আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের আশ্বাস

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক ডেস্ক

জুলাই সনদের মূল ভাবধারা ও লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে আইন সংস্কার কমিশনের সকল প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত জেলা বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই কথা বলেন।

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে আইন সংস্কারের লক্ষ্যে কমিশন ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। রাষ্ট্র সংস্কার ও বিচার বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সেই অধ্যাদেশগুলোর প্রায় সবগুলোই বর্তমান সরকার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, জনগণের বিচার পাওয়ার অধিকার সহজীকরণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গঠিত কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। আইন সংস্কারের এই প্রক্রিয়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই সনদের চেতনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশের আইনি অবকাঠামো পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন। পূর্ববর্তী কমিশনগুলোর নিবিড় গবেষণা ও পর্যালোচনার পর যে প্রস্তাবনাগুলো তৈরি করা হয়েছে, তা দেশের বিদ্যমান আইনি সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার ধাপে ধাপে এই সংস্কার বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও আধুনিক বিচার বিভাগ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহে আয়োজিত এই বৃক্ষমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রীর পাশাপাশী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ অন্যান্য শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মন্ত্রী উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে দেশের সাময়িক রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

বাংলাদেশে বিচার বিভাগীয় সংস্কার ও আইন আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনের একটি দাবি। বিভিন্ন মেয়াদে গঠিত কমিশন দেশের আইনি কাঠামো সংস্কারের জন্য নানা সুপারিশ প্রদান করলেও তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রায়শই থমকে গিয়েছিল। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ ও প্রস্তাবনাগুলোকে জুলাই সনদের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা কমবে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। সরকারের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ