বাংলাদেশ ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানগণ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এই সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধানগণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তাঁরা রাষ্ট্রপতির নতুন দায়িত্বের সফলতা কামনা করেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির নিকট বিস্তারিত তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তাঁরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো জাতীয় প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া, নিজ নিজ বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে বিবরণ পেশ করেন।
বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন বাহিনী প্রধানগণ। এ সময় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং বর্তমান সরকার এই বাহিনীকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্ব ও পরিবর্তিত প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কৌশলগত দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ও আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এই সাক্ষাতের ফলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


