বাংলাদেশ ডেস্ক
স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন সব সরকারি অফিসের ভবনের ছাদে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত দুটি পৃথক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় জানানো হয়, এই কার্যক্রম কেবল কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না; বরং জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি অফিসগুলোতেও ধাপে ধাপে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আওতা সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে একটি সাশ্রয়ী, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সরকারি সেবা অবকাঠামোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে। সোলার প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ও হাইব্রিড সিস্টেম ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সন্ধ্যার পরও নিরবচ্ছিন্নভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা গ্রহণ এবং পরবর্তীতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দুজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে পৃথক দুটি উচ্চপর্যায় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের আওতাধীন সরকারি ভবনগুলোর মধ্য থেকে কোন কোন ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব, তা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে চিহ্নিত ছাদগুলোর মোট ক্ষেত্রফল, সম্ভাব্য আর্থিক ব্যয় এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
উল্লেখ্য, সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হয়। এই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর এই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জ্বালানি খাতের ওপর চাপ কমানো এবং সরকারি সেবায় দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকরা।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।


