শিক্ষা ডেস্ক
চলতি বছরের দাখিল (এসএসসি-সমমান) পরীক্ষায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও মেধাভিত্তিক কৃতিত্ব দুটোতেই সূচক নিম্নমুখী দেখা গেছে। সদ্য প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার এই বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। বিগত বছরে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। পাসের হার কমার পাশাপাশি সর্বোচ্চ মেধা সূচক জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৩৫০ জন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। দেশের সার্বিক শিক্ষা পরিস্থিতির আলোকেই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এই ফলাফল বিশ্লেষণ করছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন এবং সার্বিক তদারকির প্রভাব সামগ্রিক ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণদের মধ্যে সর্বমোট ৬ হাজার ৭১৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন, যা মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর মাত্র ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী বছর এই বোর্ড থেকে মোট ৯ হাজার ৬৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়নেও এবার নেতিবাচক চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৩১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। এককভাবে এই বোর্ডের অধীনে থাকা ২২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার পাসের মুখ দেখেননি।
শূন্য পাসের হারের তালিকায় থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও পঠন-পাঠনের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রান্তিক পর্যায়ের মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক সংকট, পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবই শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ।
ফলাফলের সার্বিক বিপর্যয় পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। যেসব প্রতিষ্ঠানে ফল বিপর্যয় ঘটেছে, সেগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশেষ একাডেমিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


