রাজনীতি ডেস্ক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম চূড়ান্ত করা হয়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক ত্রুটি এড়াতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে দুটি আলাদা সেট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধিদল এই মনোনয়নপত্র দাখিল করবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদের সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বিগত কয়েক দশকে রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্বদান এবং দল পুনর্গঠনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় নীতি-নির্ধারণী ফোরাম তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের জন্য বেছে নিয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে সংবিধানের বাধ্যবাধকতা মেনে তিনি ইতোমধ্যে প্রার্থী হিসেবে সম্মতিসূচক নথিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন।
অন্যদিকে, সংসদীয় বিরোধী দল অর্থাৎ ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা নির্বাচন ভবনে উপস্থিত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ১৩ আগস্ট বিকেল ৪টায় মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন রাখা হয়েছে ১৮ আগস্ট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বহাল থাকলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে ৩৪৯ সদস্যের জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নিরঙ্কুশ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে গাণিতিক সমীকরণ ও সংসদীয় আসনের বিন্যাস বিচারে বিরোধী জোটের প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাচ্ছেন বলে সর্বমহলে নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৪ জুলাই সাবেক ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে পদত্যাগ করলে এই পদটি খালি হয়। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থেকেই নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের সরকার গঠন এবং দলীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁকে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ ও দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এর ফলে সরকার ও দল উভয় বিভাগেই নতুন নেতৃত্ব পদায়নের বিষয় সামনে আসছে। এ ছাড়া তাঁর সংসদীয় আসন (ঠাকুরগাঁও-১) শূন্য ঘোষিত হওয়ায় পরবর্তীতে ইসির অধীনে সেখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


