ডেস্ক
অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে মূল্যবান পোশাক গ্রহণ করে তার প্রচারণা না চালানো এবং পণ্যের মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়েরকৃত প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় জামিন পেয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জুয়েল রানার আদালতে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। উভয়পক্ষের আইনি শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন প্রদানের নির্দেশ দেন।
নথি সূত্রে জানা যায়, ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন ভিত্তিক ফ্যাশন হাউজ অভিনেত্রী তানজিন তিশার কাছে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি বিশেষ শাড়ি সরবরাহ করে। চুক্তি অনুযায়ী পোশাকটি পরিধান করে প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক প্রচারণা চালানোর কথা ছিল তিশার। তবে অভিযোগ ওঠে, শাড়িটি গ্রহণের পর তিনি ফ্যাশন হাউজটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেননি। পরবর্তীতে বকেয়া মূল্য পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি। বাণিজ্যিক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মুখে বাধ্য হয়ে অ্যাপোনিয়া কতৃপক্ষ অভিনেত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নোটিশের জবাব না মেলায় ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করে ফ্যাশন হাউজটি।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিষদ তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান চালিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত গত ১২ জুলাই তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং আগস্টের নির্ধারিত তারিখে সরাসরি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ মেনে তিনি বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান।
অন্যদিকে, জামিন আবেদনের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনি প্রতিনিধি জানান, শাড়িটি তাকে সৌজন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে কোনো বাণিজ্যিক শর্ত বা আর্থিক লেনদেনের বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা এই দাবি খণ্ডন করে আদালতে জানান, বাণিজ্যিক প্রচারণার নির্দিষ্ট চুক্তি ও তথ্যপ্রমাণাদি বিশ্লেষণ করেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক সার্বিক দিক বিবেচনায় আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জামিনপ্রাপ্তির মাধ্যমে তানজিন তিশা সাময়িক আইনি স্বস্তি পেলেও মামলার মূল বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত হচ্ছে না। বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে সাক্ষ্যগ্রহণ, জবানবন্দি ও যুক্তিতর্ক প্রদর্শনের মাধ্যমে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে ই-কমার্স ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক ডিজিটাল ব্র্যান্ড প্রচারণার বাজার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তারকা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের (ইনফ্লুয়েন্সার) দিয়ে পণ্যের বিপণন চুক্তির ক্ষেত্রে প্রায়শই মৌখিক সম্মতির ওপর নির্ভর করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা সৃষ্টি করে। ফ্যাশন হাউজ ও তানজিন তিশার মধ্যকার এই আইনি বিরোধটি অনলাইন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচারক তারকাদের মধ্যবর্তী পেশাদার চুক্তির স্বচ্ছতা, শর্তাবলী এবং আস্থার আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। বাণিজ্যিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডকে সুশৃঙ্খল করতে ভবিষ্যতে উভয়পক্ষেরই লিখিত চুক্তি ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করা আবশ্যক।


