জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস উইং পুনর্গঠন এবং সেখানে নিজের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে পরিচালিত সাম্প্রতিক প্রচারণায় তীব্র অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি প্রেস উইংয়ের বর্তমান কর্মকর্তাদের কাজের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে এ ধরনের অনভিপ্রেত প্রচারণা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ অন্যান্য প্রশাসনিক পদের পরিবর্তন এবং নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নানামুখী আলোচনা জোরদার হয়। এর অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মুশফিকুল ফজল আনসারীকে প্রেস উইংয়ের দায়িত্বে আনার জন্য একশ্রেণীর সমর্থক জোর প্রচারণা শুরু করে। বিষয়টিকে পদপ্রত্যাশী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের অপচেষ্টা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজের পরিবেশ বিনষ্ট করার শামিল হিসেবে দেখছেন এ অভিজ্ঞ কূটনৈতিক।
বিবৃতিতে মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রেস উইংয়ের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দর্শন, কার্যপদ্ধতি ও ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক সক্ষমতার একটি বড় ভিত্তি। প্রেস সচিব ও অতিরিক্ত প্রেস সচিবদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে আরও উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ সব সময়ই থাকে, তবে তা বর্তমান টিমের দক্ষতা বা আন্তরিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে না। অন্য কোনো নতুন টিম এলেই যে সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন হয়ে যাবে—এমন ভাবনার পেছনেও কোনো যৌক্তিক নিশ্চয়তা নেই।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, পদে থাকা বা না থাকা দেশসেবার একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। কোনো রাষ্ট্রীয় পদ-পদবি না থাকা অবস্থাতেও তিনি দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভূমিকা রেখেছেন। পদপ্রার্থী হওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন না জানিয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অস অস্বস্তিকর দাবি তোলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক একচ্ছত্র এখতিয়ারের বিষয়টিকে পুনর্ব্যক্ত করে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, কাকে কোনো পদে দায়িত্ব দেওয়া হবে বা প্রেস উইং কীভাবে পরিচালিত হবে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও আস্থার ওপর নির্ভর করে। এ নিয়ে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক আন্দোলন গঠন করা অপ্রয়োজনীয়। রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হওয়াকে সাময়িক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদের চেয়ে দেশের প্রতি আনুগত্য ও স্বতঃস্ফূর্ত দায়িত্ববোধই দীর্ঘস্থায়ী বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রদূতের এ ধরনের স্পষ্ট অবস্থান প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বার্তার মাধ্যমে প্রেস উইং সংক্রান্ত যাবতীয় জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে এবং কর্মরত কর্মকর্তাদের ওপর সৃষ্টি হওয়া বাড়তি মানসিক চাপ নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


