বিনোদন ডেস্ক
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমস দীর্ঘ দুই মাসের এক দীর্ঘ ইউরোপ সফরে সংগীতের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করছেন। গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া এই সফরে তিনি একাধিক ইউরোপীয় দেশে সংগীত পরিবেশন করছেন, যা প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
গত ২৫ জুলাই লন্ডনে কনসার্টের মধ্য দিয়ে এই সফরের সূচনা হয়। লন্ডনের মঞ্চ মাতানোর পর পর্তুগাল, সাইপ্রাস, ইতালি ও সুইডেনসহ বেশ কিছু দেশে সংগীত পরিবেশনের পরিকল্পনা রয়েছে তার। গত ২৬ জুলাই পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নেন জেমস। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি তাকে মঞ্চে দেখার সুযোগ পেয়ে দেশটির প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
এই সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ইতালির রোমে কনসার্ট। দীর্ঘ এক যুগ বিরতির পর আগামী ১৬ আগস্ট জেমস পুনরায় রোমের মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করতে যাচ্ছেন। ইতালির দর্শকরা দীর্ঘ সময় ধরে এই আয়োজনের অপেক্ষায় ছিলেন। রোমের পর সফরের অংশ হিসেবে জেমসের ভেনিসে সংগীত পরিবেশন করার কথা রয়েছে। এছাড়া সফরের শেষভাগে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সুইডেনে একটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তার এবারের ইউরোপ সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জেমসের মুখপাত্র ও নগর বাউল ব্যান্ডের ব্যবস্থাপক রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন জানান, স্থানীয় আয়োজকদের ব্যবস্থাপনায় এসব কনসার্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে দর্শকদের চাহিদার ভিত্তিতে কনসার্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, প্রবাসী শ্রোতাদের আগ্রহের কারণে অনেক সময় পূর্বনির্ধারিত আয়োজনের বাইরেও অতিরিক্ত কনসার্ট করতে হয়। সংগীতপ্রেমীদের ভালোবাসার টানে জেমস বরাবরই দেশ-বিদেশের মঞ্চে তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে থাকেন।
বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের জগতে জেমস এক স্বতন্ত্র ধারার নাম। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে তিনি তার গান ও পরিবেশনার মাধ্যমে শ্রোতাদের মাঝে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার ইউরোপ সফর কেবল সংগীত পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিদেশের মাটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলা সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে এ ধরনের কনসার্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জেমসের এই দীর্ঘ সফর বাংলাদেশের সংগীতকে বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসে থাকা নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যেও দেশের সংগীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, অবশিষ্ট কনসার্টগুলোতেও বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি থাকবে, যা এই সফল সফরকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।
উল্লেখ্য, জেমসের সংগীত ক্যারিয়ারে এটি কোনো নতুন অভিজ্ঞতা নয়। এর আগেও তিনি বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে সফলভাবে ধারাবাহিক কনসার্ট সম্পন্ন করেছেন। তার গান এবং মঞ্চ পরিবেশনার বিশেষত্ব তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। এবারের সফরের সফলতা ও ব্যাপক দর্শক সাড়া প্রমাণ করে যে, বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে জেমসের সংগীতের আবেদন আজও অমলিন।


