রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি অবান্তর: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবি অবান্তর: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্বে সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের দাবিকে অবান্তর ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সাংবিধানিক কোনো পরিবর্তনের বিষয় একান্তই সংসদের এখতিয়ার এবং বর্তমান প্রক্রিয়া প্রচলিত সংবিধানের রূপরেখা মেনেই সম্পন্ন হতে হবে।
রবিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে দলের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব তোলা হয়। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বর্তমান কাঠামোয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদ একটি বড় অন্তরায়। জামায়াতের এই অবস্থান প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এটি পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার বিষয়। সংসদ যদি সামগ্রিক বিবেচনায় সবার সম্মতিক্রমে কোনো পরিবর্তন আনতে চায়, তবে তা ভবিষ্যতে হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঠিক পূর্বে এমন প্রশ্ন তোলা সম্পূর্ণ অবান্তর এবং এটি জনমনে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রচলিত সংবিধানের রূপরেখা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সংবিধানে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা বা বাধা প্রতীয়মান হলে তা নিরসনের একমাত্র সাংবিধানিক পথ হলো জাতীয় সংসদ। সংসদের বাইরে রাজপথে বা অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যে সাংবিধানিক জটিলতা সমাধান সম্ভব নয়। কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হবে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা জানান, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এই মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং সমর্থনকারী ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্বয়ং। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে এবং দলটি এখন নির্ধারিত ভোটগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছে।
নির্বাচন কমিশন ভবনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিএনপির প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুসহ অন্যান্য দলীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। অন্যদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এটিকে গোপন ব্যালটে স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলোচনার অনুপযুক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করা হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে পারস্পরিক অবস্থান স্পষ্ট করার একটি চিত্র এই বক্তব্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ