বিদ্যুৎ সংকট ও সারের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় সরকারের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

বিদ্যুৎ সংকট ও সারের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় সরকারের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক
পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতকে দলীয়করণের মাধ্যমে সংকটের মুখে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বিদ্যুৎ সরবরাহে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সোলার বিদ্যুতের ওপর জোর দিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বিদ্যমান ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এছাড়া কৃষিখাতে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে কোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রবিবার সকালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র ও এর পেছনের কারণ তুলে ধরে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অতীতের ভুল নীতি ও অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ খাতে গভীর সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সেই জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে বিঘ্নিত করেছে। বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বই এর নেতিবাচক প্রভাব প্রত্যক্ষ করছে।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি তদারকি করছেন এবং জনভোগান্তির বিষয়ে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধানের পথরেখা তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার পাওয়ার) উৎপাদনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তি উদ্যোগ, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
আলোচনাসভায় কৃষি খাতের চলমান পরিস্থিতি এবং সারের সরবরাহ নিয়েও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী কিছু ডিলার বর্তমানে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জিম্মি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ রাখতে নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে আলোকপাত করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মাছ একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও সহজলভ্য আমিষের উৎস। দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী নদী ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচি জোরদার করেছে। পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদীর ভাঙন রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নদীপাড়ে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কার্যকর ‘বিন্যা ঘাস’ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। প্রতিমন্ত্রী র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন। অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিমসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ