আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ক্রমাগত সামরিক বা রাজনৈতিক হুমকি দেওয়ার পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে ভাবা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি। আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথ নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের শীর্ষ আইনপ্রণেতার এই কঠোর বার্তা সামনে এলো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইব্রাহিম আজিজি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা উসকে দেওয়ার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য অনুকূল নাও হতে পারে। ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে চাপ সৃষ্টির কৌশল অব্যাহত থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে সুরক্ষার তাগিদে ট্রাম্পকে খাদ্য পরিবহনকারী কোনো ট্রাকে আশ্রয় নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।
ইরানের আইনপ্রণেতার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই পথটি ইরানের ভূখণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক তৎপরতা ও হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রণালিটিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বিবেচনা করবে না।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ধারণ করে। ফলে এই নৌপথ অবরুদ্ধ থাকা বা সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলবাহী ট্যাংকার ও সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজের পরিচালন ব্যয়, বিশেষ করে সামুদ্রিক বিমা খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা কাঠামোর টানাপোড়েন এখন সমুদ্রপথে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ইরানের পক্ষ থেকে জলপথ নিয়ন্ত্রণের এই অনড় অবস্থানকে নিজেদের কৌশলগত দরকষাকষির মূল হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের উপস্থিতি এবং পাল্টা নিরাপত্তা বলয় তৈরির চেষ্টা পরিস্থিতিকে বহুমুখী কূটনৈতিক ও সামরিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কূটনৈতিক উপায়ে অবিলম্বে এই বিরোধের সমাধান না হলে জ্বালানি সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে।


