আইন ও আদালত ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় মাত্র ১২ কার্যদিবসে ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং বিচার বিভাগে পুঞ্জীভূত মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ কার্যক্রমে এ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ এই উদ্যোগের আওতায় গত ১৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে এক দিনেই রেকর্ড ৫ হাজার ৪০৫টি পুরোনো ‘ক্রিমিনাল মিস’ (ফৌজদারি বিবিধ) মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিশেষ কার্যক্রমের ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির মাইলফলক স্পর্শ করে আদালত। এসব ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি নিষ্পত্তিকৃত পুরোনো রিট মামলা যুক্ত হয়ে সর্বমোট নিষ্পত্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৬৩৭টিতে।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক বিচার প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনাই এই বিশেষ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চগুলোর বিচারপতিদের সমন্বয়ে এই বিশেষ কার্যক্রমের সূচনা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের সুনির্দিষ্ট দিনে পুরোনো ক্রিমিনাল মিস এবং রিট মামলাসমূহকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের এই বিশেষ কার্যক্রম আগামীতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থায় মামলা জট দীর্ঘদিন ধরেই একটি অন্যতম প্রধান কাঠামোগত সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। লাখ লাখ বিচারাধীন মামলার চাপে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে যেমন দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, তেমনি বছরের পর বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা। হাইকোর্ট বিভাগের এই বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত সময়ে বিপুল পরিমাণ মামলার নিষ্পত্তি হওয়াকে সেই অচলাবস্থা নিরসনে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ফৌজদারি বিবিধ ও রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখায় জমে থাকা দীর্ঘদিনের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে পুঞ্জীভূত মামলা জট দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির এই সমন্বিত উদ্যোগ বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, মাত্র ১২ কার্যদিবসে ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হওয়া দেশের সামগ্রিক বিচারিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক অর্জন। বিশেষ করে মাত্র এক কার্যদিবসে ৫ হাজার ৪০৫টি ফৌজদারি বিবিধ মামলা নিষ্পত্তি বিচার বিভাগের একাগ্রতা ও দক্ষতার অনন্য নজির। এই ধারা অব্যাহত রাখতে বিচার বিভাগের সব উদ্যোগ ও কার্যক্রমে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
আদালত সংশ্লিষ্টদের মতে, হাইকোর্ট বিভাগের এই বিশেষ পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে দেশের উচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দীর্ঘ প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে।


