পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম

পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম

জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। মঙ্গলবারই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম তা সরাসরি অস্বীকার করেননি। তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা যথাসময়ে সবাই জানতে পারবেন। তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। ওই বছরের অক্টোবর মাসে তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেন। এরপর সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক গতিশীলতা ফেরাতে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমকে পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে কমিশনের বেশ কয়েকজন নতুন সদস্যও নিয়োগ পান।
অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসসহ (বিসিএস) সরকারি বিভিন্ন স্তরে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও দ্রুততম সময়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষার জট নিরসন, প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ এবং মৌখিক পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।
সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং তাঁদের পদত্যাগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির নিকট সরাসরি লিখিত পত্র দাখিল করতে হয়। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ফলে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন চলমান পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে গভীর দৃষ্টি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্ম কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার মূল দায়িত্ব হলো প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত ও দক্ষ জনবল নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদান করা। কমিশনের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের ফলে বিসিএস পরীক্ষাসমূহ যথাসময়ে সম্পন্ন করা, ক্যাডার ও নন-ক্যাডার নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা দূর করা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সরকারের জন্য একটি বড় প্রশাসনিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির রুটিন কার্যক্রম বা কমিশনের পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কার্যতালিকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ