ফাইনাল পরবর্তী বিশৃঙ্খলায় আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার ও কোচকে ফিফার নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক জরিমানা

ফাইনাল পরবর্তী বিশৃঙ্খলায় আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার ও কোচকে ফিফার নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক জরিমানা

খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেন দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতি ও অসদাচরণের ঘটনায় আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের তিন খেলোয়াড় এবং সহকারী কোচের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ও দর্শক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এছাড়া স্পেনের একজন ফুটবলারকেও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা করা হয়েছে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় শাস্তির মুখে পড়েছেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রক্ষণের খেলোয়াড় নাহুয়েল মলিনাকে দেওয়া হয়েছে ৭ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন মিডফিল্ডার থিয়াগো আলমাদা এবং আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে ৩ ম্যাচের জন্য ডাগআউট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিপক্ষ স্পেন দলের মিডফিল্ডার গাভিকেও ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার দায়ে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পারেদেস ও মলিনাকে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে আলমাদা, সহকারী কোচ আয়ালা এবং স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভিকে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করতে হবে।
ব্যক্তিগত শাস্তির পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে ফিফা। আচরণবিধি লঙ্ঘন, দলের নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং সমর্থকদের অসদাচরণের দায়ে এএফএ-কে মোট ৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্টেডিয়ামের মোট ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শক আসন ফাঁকা রেখে ম্যাচ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে শিরোপা হারানোর পর মাঠেই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। খেলা শেষ হওয়ার পরপরই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে শারীরিক সংঘাতে জড়ান লিয়ান্দ্রো পারেদেস। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পেনের বেঞ্চ থেকে মিডফিল্ডার গাভি এগিয়ে এলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং মলিনা ও আলমাদাও তাতে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে উভয় দলের কর্মকর্তা ও সহ-খেলোয়াড়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ম্যাচ কমিশনারের প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণের পরই ফিফা এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ফিফার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মাঠের খেলোয়াড়দের আচরণগত বিচ্যুতির পাশাপাশি সমর্থকদের বৈষম্যমূলক আচরণও দলটির ওপর শাস্তির বোঝা ভারী করেছে। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকেন্দ্রিক বিতর্কিত ব্যানার ও রাজনৈতিক স্লোগান প্রদর্শনের বিষয়টিও আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফিফা স্পষ্ট করেছে যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের মর্যাদা, নিরপেক্ষতা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও উসকানিমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি অব্যাহত থাকবে।
খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ