গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করছে সরকার: জাতীয় স্মৃতিসৌধে ড. আবদুল মঈন খান

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করছে সরকার: জাতীয় স্মৃতিসৌধে ড. আবদুল মঈন খান

জাতীয় ডেস্ক
সাভার (ঢাকা): দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও পরিবর্তনের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের বিভিন্ন নীতি, মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক রদবদল এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক গতিশীলতা
সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, দেশ পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার দেশের চলমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রায় ছয় মাস আগে গঠিত মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত করা একটি নিয়মিত ও স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও দক্ষতা বৃদ্ধি, সংকট নিরসন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই এই রদবদল আনা হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গণতান্ত্রিক পরিক্রমা
বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন সন্ধিক্ষণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি। দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় সংকটের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিশেহারা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। একইভাবে আশির দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ১৯৯১ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশকে একটি কার্যকর ও গতিশীল রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নেতৃবৃন্দ শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন এবং স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ