জাতীয় ডেস্ক
মর্যাদা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং পারস্পরিক মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতকে অবশ্যই সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রূপরেখা তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা ছিল একপেশে ও ভাবাবেগভিত্তিক। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এখন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং ভারতকে এখন এ দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাব ও আকাঙ্ক্ষাকে বিবেচনায় নিয়ে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি পরিচালনা করতে হবে।
তিনি ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক ইতিবাচক বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে তাঁর ব্যক্ত করা অবস্থান কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি আরও দাবি করেন, ভারত এরই মধ্যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে, যা জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
এর আগে, হাসপাতালের সামগ্রিক সেবা কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাশেদ খান। মতবিনিময়কালে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা এবং সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় নেতা ডা. হাসানুজ্জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


