বাংলাদেশ ডেস্ক
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ এবং মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক ও মানসম্মত কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
রবিবার সচিবালয়ে ডেঙ্গু বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির এক জরুরি সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা জানান। ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই উচ্চপর্যায়ের সভার আয়োজন করা হয়।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে দিনরাত মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। মশা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের প্রযুক্তি ও সহযোগিতায় মশা নিধনের স্প্রে নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকার কেবল এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সীমিত আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের মধ্যেই সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে জনসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সব ক্ষেত্রে চাহিদার শতভাগ পূরণ করা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না, তবে জনগণের জীবন সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। এবার যেন বর্ষা মৌসুমে মশা ও এডিস লার্ভার বিস্তার অতিরিক্ত মাত্রায় বাড়তে না পারে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বেগবান করা হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে কেবল সিটি কর্পোরেশনের লার্ভিসাইডিং বা ফগিং কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; বরং বাসা-বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, অব্যবহৃত পাত্র এবং চারপাশের জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


