ভারতে বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের অভিযোগ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া

ভারতে বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের অভিযোগ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে গত সোমবার লাল কেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার পর, ভারতীয় গণমাধ্যম পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে তিনি বাংলাদেশে হামলার ছক তৈরি করেছেন। তবে, এই দাবি অস্বীকার করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এ ধরনের তথ্য বিশ্বাস করার কোনো ভিত্তি নেই।ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া সোমবার এক খবরে জানিয়েছে, পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাঈদ ভারতে হামলার পরিকল্পনা করতে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে এক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “মিডিয়া যে কোনো ঘটনা ঘটলেই আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করবে, তবে এ ধরনের তথ্যের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য কারণ নেই। সেনসিবল মানুষ এ ধরনের তথ্য বিশ্বাস করবে না।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, গত সোমবার দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটি গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। বিস্ফোরণের পর ভারতের সমস্ত রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আরও জানানো হয় যে, এই হামলার পিছনে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে, এবং মন্তব্য করেছে যে ভারতীয় গণমাধ্যমের এমন প্রতিবেদনের কোনো ভিত্তি নেই। তারা জানায়, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত অনেক তথ্যই খুব সাধারণ তথ্যভিত্তিক এবং সেগুলোর যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কোনও পরিণতি আঁচ করা সম্ভব নয়। ভারতে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটার একদিন পর, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ শহরে জেলা ও দায়রা আদালতের বাইরে এক আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানান, এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আত্মঘাতী হামলাকারী আদালতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিলেন, তবে তার পক্ষে তা সম্ভব না হওয়ায় তিনি একটি পুলিশ গাড়ির দিকে হামলা চালান। এই হামলার পেছনে কারা বা কী উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলমান। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্কের আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, লস্কর-ই-তৈয়বার মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম জড়িয়ে যাওয়া দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বাংলাদেশকে এ বিষয়ে দোষারোপ করার চেষ্টার ফলে দেশটির আন্তর্জাতিক অবস্থানেও কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে।

এছাড়া, পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা, যদিও পাকিস্তান নিজেই তার গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করেছে, তবে এটি ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর ক্রিয়াকলাপের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের অভিযোগের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই এ অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে। ভারতে বিস্ফোরণের ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলার পরের অবস্থা দুই দেশের নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা এবং কার্যক্রমকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে বাধ্য করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ