আইন আদালত ডেস্ক
আওয়ামী লীগের শাসনামলে শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আজকের শুনানিতে মামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) প্রদান করা হবে। এরপর এক নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে মূল সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া এই সাক্ষ্য প্রদান করবেন।
গত ১৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আজকের দিনটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ক্যালেন্ডারভুক্ত করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা প্রথম অভিযোগটি ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ের। ওই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে তার সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত, যেখানে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা করার দায় আনা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগটিও একই ধরনের, যার মধ্যে আরও ৫০ জনকে হত্যার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনা প্রক্রিয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আদালতের চলমান এই বিচার কার্যক্রম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল-১ সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ধরনের বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


