সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে সরকারের মনোভাব জানার উদ্যোগ

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে সরকারের মনোভাব জানার উদ্যোগ

রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভার পর জাতীয় পার্টি (নবজাত) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংক্রান্ত সরকারের অবস্থান সংসদে জানতে চাওয়া হবে। আজ শনিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করব। সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে জানতে চাওয়া হবে সরকারের মনোভাব কী। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তিনি এ সময় সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে একই দিনে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ১১ দলের জোটের বৈঠকের পর জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জুলাই সংক্রান্ত সনদ বাস্তবায়নের জন্য আগামীকাল রবিবার সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, ২৮ মার্চ শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সংবিধান সংস্কার বিষয়টি বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। বিরোধী দলসমূহ সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়াকে একটি প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন, যা সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান আনার চেষ্টা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ মূলত বাংলাদেশের সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তবে সংশ্লিষ্ট সংশোধনী প্রস্তাব ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দল গত কয়েক বছর ধরে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে আসেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে এই ধরনের উদ্যোগ সফল করার জন্য সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। এ ছাড়া জাতীয় রাজনীতির বর্তমান চাপে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অপরদিকে, ১১ দলের জোট সরকারের পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে জনমতকে কাজে লাগিয়ে তাদের দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের জোটমূলক উদ্যোগ সংসদীয় চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি সরকারকে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে।

এ সময় রাজনৈতিক দলগুলো সংসদীয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি জনগণের সমর্থন অর্জনের গুরুত্বের ওপরও জোর দিচ্ছে। তারা মনে করছে, সংবিধান সংস্কার নিয়ে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত এই বিষয়ে আগামী দিনের সংসদ অধিবেশন এবং ২৮ মার্চের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলনের রূপরেখাকে প্রভাবিত করবে। এ প্রসঙ্গে, সরকার ও বিরোধী দলের কার্যক্রম এবং সিদ্ধান্তগুলোর দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ