জাতীয় ডেস্ক
কুয়েতের আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সৌদি আরব হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াতের বিশেষ এন্ট্রি পারমিট বা প্রবেশানুমতি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হওয়ায় এই বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুয়েত সরকার তাদের আকাশপথ পুনরায় খুলে দেওয়ায় এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এখন সরাসরি ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে যাতায়াতের জন্য যে বিশেষ অনুমতির ব্যবস্থা দূতাবাস থেকে করা হয়েছিল, তা ১ মে থেকে আর কার্যকর থাকছে না।
এর আগে, কুয়েতের আকাশপথ আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বন্ধ থাকার কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছিলেন না। এই সংকট নিরসনে এবং বিশেষ করে সৌদি আরব হয়ে যাতায়াত সহজ করতে দূতাবাস এন্ট্রি পারমিটের ব্যবস্থা করেছিল। বর্তমানে বিমান চলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসায় প্রবাসীরা কোনো ধরনের মধ্যবর্তী অনুমতি ছাড়াই সরাসরি টিকিট সংগ্রহ করে ভ্রমণ করতে পারবেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি বা কারিগরি কারণে বিভিন্ন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আকাশপথ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। কুয়েত সরকার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল করায় এখন থেকে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সরাসরি ঢাকা বা বিশ্বের অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসীদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, আকাশপথের এই স্বাভাবিকতা বজায় থাকলে প্রবাসীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। যারা ইতোমধ্যে সৌদি আরবের মাধ্যমে যাতায়াতের পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের এখন থেকে নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমে ভ্রমণসূচি নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আকাশপথ সংক্রান্ত যেকোনো হালনাগাদ তথ্যের জন্য প্রবাসীদের দূতাবাসের অফিশিয়াল চ্যানেলে নজর রাখতে এবং কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখা বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কুয়েতের এই সিদ্ধান্ত এবং দূতাবাসের ত্বরিত ব্যবস্থা সেই প্রচেষ্টারই অংশ। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় সৌদি আরবের ওপর চাপের পাশাপাশি বাংলাদেশি যাত্রীদের ট্রানজিট জটিলতাও নিরসন হবে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে কুয়েত থেকে বাংলাদেশ বিমানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা নিয়মিতভাবে যাত্রী পরিবহন করছে।


