জাতীয় ডেস্ক
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের বেজমেন্টে অবস্থিত অডিটরিয়ামে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ জোরদার করার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নির্বাচন কমিশন ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হলো নির্বাচন আয়োজন এবং সেই প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিন দেশের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। অনেক ভোটারের সঙ্গে আলাপচারিতায় তারা জানিয়েছেন যে ভোট দিতে গিয়ে তারা কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হননি।
সিইসি বলেন, নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনী কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রশাসন, পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম এবং অন্যান্য সহায়ক দায়িত্বেও বহু নারী যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিভিন্ন সময় কিছু অপপ্রচারের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। তিনি বলেন, সমাজে নারীদের ভূমিকা এবং অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য কমিশনার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র আরও জোরদার হয়। এ লক্ষ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের আরও বেশি করে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।


